আরামকোতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল: চাঞ্চল্যকর ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশনের তথ্য ফাঁস

 


তেহরান ও রিয়াদ: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নতুন ও ভয়ংকর মোড় নিয়েছে সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ, ২০২৬) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সৌদির আরামকো স্থাপনায় এই হামলা ইরান নয়, বরং ইসরায়েল স্বয়ং পরিচালনা করেছে। একে একটি সুপরিকল্পিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা ভুয়া পরিচয়ে চালানো গোপন অপারেশন হিসেবে অভিহিত করেছে ইরানের সামরিক গোয়েন্দা সূত্র।

হামলার উদ্দেশ্য ও কৌশলী চাল

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলের এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক দেশগুলোকে বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের ওপর হামলার দায় চাপিয়ে বিশ্ববাসীর মনোযোগ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা। মূলত ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে তেহরানের সংঘাত উস্কে দিতেই এই ‘ছদ্মবেশী’ হামলা চালানো হয়েছে। তাসনিম নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই সূত্রটি জানায়, "ইরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে এবং ইতিমধ্যে অনেক সফল অভিযান চালিয়েছে। তবে সৌদি আরবের আরামকো স্থাপনা এখন পর্যন্ত ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়নি।"

পরবর্তী লক্ষ্য ও গোয়েন্দা সতর্কতা

ইরানের গোয়েন্দা তথ্যে আরও একটি উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। তারা দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর এখন ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তুগুলোর তালিকায় রয়েছে। ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী সেখানেও একই ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এর দায় ইরানের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করছে বলে তেহরান সতর্ক করেছে। এই গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের পর পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জ্বালানি বাজারে প্রভাব ও রাস তানুরার গুরুত্ব

উল্লেখ্য, রাস তানুরা তেল শোধনাগারটি সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধন ও রপ্তানি টার্মিনাল। এখানে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল শোধন করা হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এই কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এটি সত্যিই ইসরায়েলি অপারেশন হয়ে থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংকটের মুখে পড়বে। রিয়াদ বা ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত ইরানের এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন