হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা: ট্রাম্পের আলটিমেটামের আগেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় এশিয়ার কয়েক দেশ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এশিয়ার কয়েকটি দেশ তেহরানের সঙ্গে আলাদা সমঝোতায় পৌঁছেছে, যাতে তাদের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
সোমবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা (গ্রিনিচ সময় মধ্যরাত) এর মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ‘এক রাতেই’ ইরান-কে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই হুমকিকে ঘিরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জ্বালানি নির্ভরতায় সক্রিয় এশিয়ার দেশগুলো
এর মধ্যেই পাকিস্তান, ভারত, ফিলিপাইন, চীন ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশের অর্থনীতি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে।
ফিলিপাইনের জাহাজ চলাচলে বিশেষ আশ্বাস
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা লাজারো জানান, ইরান তাদের পতাকাবাহী জাহাজের জন্য ‘নিরাপদ, বাধাহীন ও দ্রুত চলাচল’ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। দেশটির প্রায় ৯৮ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হওয়ায় এই সমঝোতা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তান ও ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, ইরান তাদের ২০টি জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তিনি একে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সংলাপই এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই ভারতীয় ট্যাংকারগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।
চীন ও মালয়েশিয়ার অবস্থান
চীনও নিশ্চিত করেছে যে তাদের কয়েকটি জাহাজ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের ট্যাংকার চলাচলে সহযোগিতা করা হয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সীমিত সমঝোতা সাময়িক স্বস্তি দিলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। শিপিং বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব জাহাজের জন্য প্রযোজ্য কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে ট্রাম্পের আলটিমেটাম এবং চলমান সামরিক উত্তেজনা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
