ঢাকা-৬ আসনের ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করলেন মামুনুল হক

 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর) আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক। তিনি ওই আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজের জয় এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একক বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মাওলানা মামুনুল হকের আবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও অসঙ্গতি ঘটেছে, যা ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণের সময় কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং ভোট ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি আদালতের কাছে নির্বাচনের ফলাফল পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। তার পক্ষ থেকে আদালতে বলা হবে যে, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন এবং প্রয়োজন হলে ভোট পুনর্গণনা বা অন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শুধু ঢাকা-১৩ আসন নয়, দেশের বিভিন্ন আসনের আরও ২৫ জন প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। এসব আবেদনে তারা নির্বাচনী অনিয়ম, ভোট গণনায় অসঙ্গতি এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। আদালত ইতোমধ্যে এসব আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এসব নথি সংরক্ষণ করা হবে যাতে প্রয়োজন হলে আদালতের নির্দেশে সেগুলো পর্যালোচনা করা যায়।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকলে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী আবেদন করা যায়। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থীরা নির্বাচনী অনিয়ম বা ফলাফল নিয়ে আদালতে অভিযোগ জানাতে পারেন। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত একক বেঞ্চ বর্তমানে এসব নির্বাচনী আবেদন শুনানি করছেন।

হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় দেখা যায়, এই বেঞ্চে অন্যান্য দেওয়ানি এখতিয়ারের পাশাপাশি নির্বাচনী বিষয়ক আবেদনও শুনানি করা হচ্ছে। কার্যতালিকায় উল্লেখ রয়েছে যে, ২০০১ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচনী আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করার এখতিয়ার এই বেঞ্চের রয়েছে। এর আওতায় যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে, সেসব আবেদন, রুল ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও এই বেঞ্চে শুনানি করা হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব আবেদনের শুনানির মাধ্যমে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগগুলো বিচারিকভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন