জুলাই না হলে ফাঁসির সেল থেকে সংসদে আসতে পারতাম না’: এ টি এম আজহারুল।
জুলাই আন্দোলন না হলে ফাঁসির সেল থেকে জাতীয় সংসদে আসা সম্ভব হতো না বলে মন্তব্য করেছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে খালাস পাওয়া এই নেতা বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “জুলাই না হলে ফাঁসির সেল থেকে সংসদে আসতে পারতাম না।” তার এই বক্তব্য সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, যারা কারাগারে ছিলেন তারা কেউই জুলাই আন্দোলনের অবদান অস্বীকার করতে পারবেন না। তার ভাষায়, সেই সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি তাদের জীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছে।
বক্তব্যে তিনি অতীত রাজনৈতিক আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তিনি যখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর দায়িত্বে ছিলেন, তখন বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–এর সঙ্গে বহু আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। তার মতে, খালেদা জিয়া সবসময় দেশের স্বার্থের বিষয়ে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি বলেন, “আমি জামায়াতের দায়িত্বে থাকার সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে নানা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তিনি দেশের প্রতি সবসময় আপসহীন ছিলেন এবং দেশের বিষয়ে তার অবস্থান ছিল অটল।”
এটিএম আজহারুল ইসলাম তার বক্তব্যে আরও বলেন, যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন, তাদের অনেকেই আজ সংসদে নেই। তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী–কে। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নিজামীর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তার দাবি, নিজামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে নিজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি জামায়াতের আরেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী–এর প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি দাবি করেন, সাঈদীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তাদের রাজনৈতিক জীবনে এসব ঘটনা বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
সংসদে দেওয়া তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অতীতের বিচার, আন্দোলন এবং রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তার মন্তব্য বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এ ধরনের বক্তব্য দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
