রাষ্ট্রপতি সংসদে ঢুকতেই ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন প্রবেশ করার পরপরই বিরোধী দলীয় বেঞ্চ থেকে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সংসদ সদস্যরা হঠাৎ দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেন।
প্ল্যাকার্ডগুলোর মধ্যে “জুলাইয়ের গাদ্দার” লেখা স্লোগানটি বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং জুলাই বিপ্লবকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংসদ সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যখন সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য ডায়াসের দিকে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বিরোধীদলীয় সদস্যরা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এতে সংসদ কক্ষে মুহূর্তেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং কয়েক মিনিট ধরে বিক্ষোভ চলতে থাকে। এ সময় বিরোধী সদস্যরা দাবি করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির অবস্থান ও অতীত ভূমিকা নিয়ে তাদের গভীর আপত্তি রয়েছে। তারা বলেন, এই প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে তারা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনগণের দাবি তুলে ধরতে চেয়েছেন।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। এতে সংসদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে এবং অধিবেশন কক্ষে কিছু সময়ের জন্য অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করেন।
তিনি সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। স্পিকারের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণসহ অধিবেশনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের ভেতরে এমন প্রকাশ্য বিক্ষোভ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনারই প্রতিফলন।
