জামায়াতের দুই নেতা আটক, জানা গেল যেসব তথ্য
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নন্দীগ্রাম পৌর জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক এটিএম মুজাহিদ এবং উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। স্থানীয় থানা সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে সহিংসতার একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা মাসুদ রানা মজিদসহ কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় এবং পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পর আহত মাসুদ রানা মজিদ নন্দীগ্রাম থানায় ৩৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই জামায়াত নেতার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পুলিশ জানায়, মামলার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে ছিলেন এবং তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করে।
সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে, তবে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
