উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আসিফ
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রেহান আসিফ আসাদ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি তাঁর কার্যক্রম শুরু করেন।
প্রথমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে আগারগাঁওয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সভাকক্ষে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সহজলভ্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে ধাপে ধাপে বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, ডিজিটাল সুবিধা বিস্তারের মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ালে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে বিদ্যমান ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এজন্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সুবিধা বৃদ্ধি এবং আধুনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ডেটা ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও কাজ চলবে বলে তিনি জানান। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান বাড়াতে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করার জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে–সংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় ফকির মাহবুব আনাম, শীষ হায়দার চৌধুরী এবং আব্দুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নবনিযুক্ত উপদেষ্টা বলেন, পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি সবাইকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দেওয়া যাবে।
