নতুন মিশনে বড় বার্তা নিয়ে মাঠে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

 


মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের ক্রান্তিকালে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন এবং প্রায় ১৮ মাস রাষ্ট্র পরিচালনার পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

 এই নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ায় ড. ইউনূসের ভূমিকার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন শেষে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক মহল, বুদ্ধিজীবী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে—তিনি কি সক্রিয় জনজীবন থেকে ধীরে ধীরে সরে যাবেন, নাকি নতুন কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্ত হবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে তিনি রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তুলনামূলক নিরিবিলি

 সময় কাটাচ্ছেন এবং ব্যস্ত সরকারি কর্মকাণ্ড থেকে কিছুটা দূরে থেকে ব্যক্তিগত সময়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী আরও কয়েক মাস সেখানে অবস্থান করার সুযোগ থাকলেও তিনি আগেভাগেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ঈদের পর গুলশানে অবস্থিত নিজ বাসভবনে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যমুনায় আগের মতো প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকলেও তিনি নিয়মিত সকালের হাঁটাহাঁটি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আগ্রহী ব্যক্তি, গবেষক বা শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে সীমিত পরিসরে সাক্ষাৎ করার সুযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যা থেকে বোঝা যায় তিনি পুরোপুরি জনপরিসর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না।

 একইসঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রচারিত “থ্রি জিরো ভিশন”—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ—নিয়ে নতুন কোনো বৈশ্বিক বা দেশীয় উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিনি আবারও সামাজিক ব্যবসা, যুব উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হতে পারেন, কারণ এই ক্ষেত্রগুলোতেই তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি বরাবরই প্রচলিত মুনাফাভিত্তিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সমালোচনা করে সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে সামনে এনেছেন এবং ব্যবসাকে মানুষের সমস্যা সমাধানের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেছেন, ফলে ভবিষ্যতেও এই দর্শনকে ঘিরে তার নতুন কর্মপরিকল্পনা গড়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 তবে এখন পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি এবং তিনি আপাতত বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলেই ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করছেন। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, নীতিগত অবস্থান এবং সামাজিক প্রভাবের কারণে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও দেশের নীতি নির্ধারণ, সামাজিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, ফলে তার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন