সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গলাচিপায় বিএনপির সব কমিটি বিলুপ্ত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও কার্যকর করতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বুধবার থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে দলীয় নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মতামত গ্রহণ করা হবে। এ উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট সব নেতৃত্ব প্রত্যাশীকে উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব আশা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হবে।
এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্য সচিব আলতাফ খান। পাশাপাশি প্রেস বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার কথা থাকলেও গলাচিপা উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ সেই সিদ্ধান্ত মানেননি। অভিযোগ রয়েছে, তারা নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে নির্বাচনী তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। এই অবস্থাকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা হিসেবে বিবেচনা করে উপজেলা পর্যায়ের সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
