নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ বিএনপির, গুরুত্ব পেল যেসব বিষয়
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি সামগ্রিক রূপরেখা তুলে ধরেছে। ইশতেহারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিএনপি বলছে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একমাত্র পথ। এজন্য তারা নিরপেক্ষ প্রশাসন, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে।
অর্থনৈতিক খাতে বিএনপির ইশতেহারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য কমানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
ইশতেহারে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে সরকারি হাসপাতালের সেবা উন্নয়ন, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
বিএনপি তাদের ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছে। দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া মানবাধিকার রক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ আছে।
সার্বিকভাবে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
.jpg)