ইরানে বিক্ষোভে নিহতদের তালিকা প্রকাশ, দেশে চরম বিতর্ক

 


ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতদের তালিকা প্রকাশের ঘটনা দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার অনলাইনে প্রকাশিত তালিকায় প্রায় তিন হাজার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৯৮৬ জনের পূর্ণ নাম, পিতার প্রথম নাম এবং জাতীয় পরিচয় নম্বরের শেষ ছয় সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে। তবে ১৩১ জন এখনও চিহ্নিত হয়নি। তালিকায় পুনরাবৃত্তি ও নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে, যেখানে নাগরিকরা অনুপস্থিত নাম রিপোর্ট করতে পারবেন। তবে তালিকা হালনাগাদ কবে হবে, তা স্পষ্ট নয়।

ইরানের সরকার জানিয়েছে, নিহত সব ব্যক্তিই দেশের সন্তান, কোনো পরিবারকে উপেক্ষা করা হবে না। কিন্তু রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করছেন। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হলেও ইরান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বিনোদন জগতেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিনেত্রী এলনাজ শাকারদোস্ট ঘোষণা করেছেন, তিনি আর ইরানি সিনেমায় অভিনয় করবেন না। এছাড়া ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবও তিনি বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি আর কখনো সেই ভূমিতে কোনো চরিত্রে অভিনয় করব না, যা রক্তের গন্ধে ভরা।”

সংবাদিকরা সরকারের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। হাম-মিহান সংবাদপত্রের সাংবাদিক প্যারিসা হাসেমি উল্লেখ করেছেন, দেশটি দুর্নীতি, দারিদ্র্য, জ্বালানি ও জল সংকট, দূষণসহ নানা সমস্যা মোকাবিলা করছে, কিন্তু কেউ পদত্যাগ করেনি। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি শুধু আশা বজায় রাখার কথাই পুনরায় উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি সরকারি নিউজ এজেন্সি ইরনা সাংবাদিকদের সমালোচনার অংশ কাটছাঁট করেছে।

এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা আরও তীব্র করছে। তালিকার প্রকাশ হলেও নিহতদের যথাযথ শনাক্তকরণ ও স্বচ্ছ তথ্য উপস্থাপন না হওয়ায় জনগণের অসন্তোষ ও আন্তর্জাতিক মনোযোগের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক ও মানবাধিকার দিক থেকেও নজরকাড়া হতে পারে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন