১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী নয়—সংস্কার প্রস্তাবে তারেক রহমান

 


একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন—এমন প্রস্তাব দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতা দীর্ঘদিন কুক্ষিগত থাকলেই স্বৈরতন্ত্র জন্ম নেয়। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রে গণতন্ত্র টেকসই করতে হলে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এই লক্ষ্যেই বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব দিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় একই ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এতে জনগণের মতামত ও অধিকার উপেক্ষিত হয়। তাই একজন ব্যক্তি যেন জীবনে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারেন, সে বিষয়ে সাংবিধানিক বিধান থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এই প্রস্তাব কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার অংশ। ক্ষমতার পালাবদল নিয়মিত হলে নেতৃত্বে নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবন আসবে, যা রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার হবে।

তারেক রহমানের মতে, বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে সরকার প্রধানের মেয়াদ সীমিত রাখার বিধান রয়েছে। এতে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার কমে। বাংলাদেশেও এমন সংস্কার সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার একমাত্র বৈধ কর্তৃত্ব, তবে সেই ক্ষমতা যেন কখনো স্বেচ্ছাচারিতায় রূপ না নেয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ক্ষমতার মেয়াদ সীমিত করার পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, শক্তিশালী সংসদ ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গড়ে তোলা জরুরি। এসব সংস্কার বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে।

তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন