স্বপ্নদোষে কি রোজা ভেঙে যায়? যা বলছে ইসলামি শরিয়াহ
রমজান মাসে ইবাদতের ব্যস্ততা ও সেহরির কারণে অনেকের রাতের ঘুমে ঘাটতি হয়। ফলে দিনের বেলায় কেউ কেউ কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে থাকেন। এ সময় স্বপ্নের মাধ্যমে বীর্যস্খলন বা স্বপ্নদোষ ঘটতে পারে। শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বপ্নদোষে গোসল ফরজ হলেও রোজা ভঙ্গ হয় না। কারণ এটি মানুষের ইচ্ছাধীন কাজ নয়; বরং ঘুমন্ত অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে থাকে। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনটি বিষয় রোজা ভঙ্গের কারণ নয়—বমি, শিঙ্গা লাগানো ও স্বপ্নদোষ (মুসনাদে বাযযার, হাদিস ৫২৮৭; জামে তিরমিজি, হাদিস ৭১৯)। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, স্বপ্নদোষ রোজার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে অনেকের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। এ ধারণা সঠিক নয়। সুতরাং রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে শুধু পবিত্রতার জন্য গোসল করতে হবে; রোজা ভাঙবে না এবং কাজা বা কাফফারার প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, রমজানের দিনে সচেতনভাবে সহবাস করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তা রোজা ভঙ্গের গুরুতর কারণ। সহিহ বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি রোজা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করার কথা স্বীকার করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে কাফফারা আদায়ের নির্দেশ দেন (সহিহ বুখারি : ৬৭০৯; জামে তিরমিজি : ৭২৪)। অধিকাংশ ফকিহের মতে, এ ক্ষেত্রে শুধু কাজা নয়, কাফফারাও আদায় করতে হয়—যা হলো ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা রাখা; তা সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করা। সাহাবি মুহাম্মাদ ইবনে কা’ব (রা.)-এর বর্ণনা থেকেও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কাজা ও কাফফারা উভয়টির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা খাও ও পান করো, যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে পৃথক হয়ে স্পষ্ট হয়” (সুরা আল-বাকারা : ১৮৭)। অতএব সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা সহবাসে লিপ্ত হলে কাজা ও কাফফারা উভয়ই আবশ্যক হবে।
