ভোট কারচুপির বিচার চেয়ে হাইকোর্টে জামায়াত, ৪ প্রার্থীর রিট আবেদন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে মামলা করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বুধবার (১১ মার্চ) এ বিষয়ে আদালতে নির্বাচনী আবেদন বা ইলেকশন পিটিশন দাখিল করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এসব মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেন-এর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।
একই ধরনের অভিযোগ এনে পৃথক নির্বাচনী আবেদন করেছেন ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। এছাড়া বরগুনা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াতের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ এবং পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী-ও হাইকোর্টে পৃথকভাবে নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোটগ্রহণের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন ফলাফলে দেখা যায়নি। এ কারণে তারা আদালতের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এর আগে একই অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করেছেন খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনিও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পাশাপাশি বিএনপির আরও চারজন প্রার্থীও পৃথকভাবে আদালতে নির্বাচনী আবেদন করেছেন।
আদালতে আবেদন করা বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের প্রার্থী ফারুক আলম সরকার, ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী, পাবনা-৩ আসনের প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে এসব পিটিশনের শুনানির মাধ্যমে অভিযোগগুলো যাচাই করা হবে। আদালত যদি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়, তাহলে প্রয়োজনীয় তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। ফলে এসব মামলার শুনানি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
