মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ৪০তম ধাপের হামলা যা জানা গেল

 


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হামলার ৪০তম ধাপ শুরু করেছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, এই ধাপে ইসরায়েল এবং অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযানে ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে কাদের, এমাদ, খেইবার শেকান ও ফাত্তাহ উল্লেখযোগ্য। ইরানের দাবি, এসব অস্ত্রের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিশেষ করে তেলআবিব, জেরুজালেম ও হাইফাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হামলার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানের আল-আজরাক এবং সৌদি আরবের আল-খারজে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ইরানের এই হামলার খবর প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা অন্তত আটটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে, ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময় কুয়েতের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। একদিকে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা সামরিক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন