প্রতিবেশীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর প্রতিবেশীর বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে দেড় বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুর নাম কানিজ ফাতেমা। সে রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের পশ্চিম চরমোহনা গ্রামের রায় বাড়ির বাসিন্দা কাঞ্চন হোসেন ও জান্নাতুল ফেরদৌস মেরিন দম্পতির মেয়ে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ প্রতিবেশী তোফায়েল আহাম্মদের বাড়ির বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তোফায়েল আহাম্মদ, ফিরোজা বেগম ও নিশু আক্তার—এই তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করার সময় কানিজ ফাতেমা হঠাৎ নিখোঁজ হয়। শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে শিশুটি প্রতিবেশী তোফায়েল আহাম্মদের ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছিল। এরপর থেকেই তাকে আর কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পর শিশুটির মা জান্নাতুল ফেরদৌস মেরিন রায়পুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া জানান, অপহরণ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তোফায়েল আহাম্মদের বাড়ির বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকে শিশুটির মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ নির্মম ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
