ভোটে জয়ের পর হাঁস কোলে সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক এলাকা) চমক দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বিজয়ী হয়েছেন। ‘হাঁস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। ফলে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন রুমিন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় হাঁস প্রতীক বেছে নেওয়ার পেছনের গল্প এবং তার রাজনৈতিক পথচলার নানা দিক তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তার জন্য সহজ ছিল না। তবে তার চেয়েও কঠিন ছিল মাঠপর্যায়ে কর্মীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি হয়তো হেরে গেলে ঢাকায় ফিরে গিয়ে আমার পেশায় যোগ দিতে পারতাম। কিন্তু আমার নেতাকর্মীরা, যারা ১৭ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও কাজ করেছে, তারা কখনো ভেঙে পড়েনি। আজকের এই জয় তাদের।’ তিনি কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চান।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কিছু অভিযোগও তোলেন। তার দাবি, ভোটগ্রহণের দিন দুপুরের পর কয়েকটি কেন্দ্রে জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে এবং ফলাফল আটকে রাখার প্রচেষ্টা ছিল। বিশেষ করে জালিয়াপাড়া কেন্দ্রের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে তিনি নিজে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং ভোট গণনার সময় কিছু ‘ফলস ভোট’ শনাক্ত করেন।
আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি দলীয় প্রার্থী নন, তাই নিজেকে প্রমাণ করতে হলে উন্নয়নমূলক কাজের বিকল্প নেই। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, “আমাকে টিকে থাকতে হলে কাজ করতেই হবে—এটাই আমার একমাত্র পথ।”
