হঠাৎ শৃঙ্খলাভঙ্গ, বিএনপি থেকে পাঁচ নেতা বহিষ্কার
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির পাঁচ নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জেলা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে বহিষ্কৃত নেতাদের স্ব-স্ব পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত তোতা, আহ্বায়ক সদস্য আব্দুল আউয়াল লোকমান, মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার সরদার এবং বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য আকতার হোসেন বাবুল। সূত্র জানায়, এই পাঁচ নেতা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য এবং বরিশাল-১ আসনের ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানের পক্ষে কাজ করছেন।
বহিষ্কৃত নেতা আকতার হোসেন বাবুল বলেন, বিষয়টি তিনি জানতেন না। তবে বহিষ্কার করলেও এটি নির্বাচনের মাঠে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আনোয়ার সাদাত তোতা জানিয়েছেন, এখনও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজ হাতে পাননি, তবে শুনেছেন যে তাঁরা বহিষ্কৃত হয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে বহিষ্কার হওয়া সত্ত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় ঠেকানো সম্ভব হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার প্রেক্ষিতে বিএনপির এই কঠোর সিদ্ধান্ত অনেকটাই শৃঙ্খলা এবং ভোট প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করতে নেওয়া একটি পদক্ষেপ। গৌরনদী ও আশেপাশের এলাকায় বহিষ্কৃত নেতাদের কার্যক্রম নিয়ে এখনও রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত হওয়ায় ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় মনোভাব এবং কৌশলকে কেন্দ্র করে আরও প্রভাব পড়তে পারে।
বহিষ্কারের বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। দলের এই পদক্ষেপকে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিএনপি নেতারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে নির্বাচনী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা অগ্রাধিকার পাবে।
.png)