২০ হাজার বৈধ অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র জমা পড়েনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্যক্তির নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৫৩ হাজার ৭০২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৪ হাজার ৮৫৪টি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৬৫টি। কেবল ব্যক্তির নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দিতে বলা হয়। সময়সীমার মধ্যে দেশের বিভিন্ন থানায় জমা পড়েছে ২৭ হাজার ৯৯৫টি অস্ত্র, বাকি ২০ হাজার ২৮৮টি এখনো অজমা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়া বৈধ অস্ত্রগুলো এখন অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং মালিকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধার ও মালিকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম সতর্ক করে বলেছেন, কেউ যদি এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ভোটে সহিংসতার চেষ্টা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে অজমা অস্ত্র নির্বাচনি সহিংসতায় ব্যবহার না হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮ জানুয়ারি জারি করা নির্দেশনায় ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ সদস্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী কিছু ছাড় রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
.jpg)