নির্বাচন কমিশনের হাতে ভোট বন্ধের ক্ষমতা: আইন কী বলে

 


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে ভোট স্থগিত বা বাতিলের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আসে। অনেকেই জানতে চান—নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কি আসলেই কোনো আসন বা কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করার ক্ষমতা আছে? বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে, যেখানে সহিংসতা, কারচুপি, আইনি জটিলতা কিংবা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠলে কমিশন ভোট স্থগিত করেছে। যেমন সম্প্রতি সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত আদালতের আদেশের কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। পরে আপিল বিভাগের নির্দেশে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এ ধরনের ঘটনা দেখায়, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কমিশনের পাশাপাশি আদালতের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বন্ধ বা স্থগিতের বিষয়টি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২–এর ৯১ এর ‘ক’ ধারায় উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের আওতায় নির্বাচন পরিচালনার প্রধান আইন হিসেবে আরপিও-ই মূল কাঠামো নির্ধারণ করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রণীত এই আইনে পরবর্তী সময়ে একাধিক সংশোধনী আনা হয়েছে। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালের সংশোধনীতে বলা হয়েছিল, কোনো ভোটকেন্দ্রে বড় ধরনের অনিয়ম, কারসাজি বা ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়ার প্রমাণ মিললে ইসি সেই কেন্দ্রের ভোট বা ফল বাতিল করে পুনঃভোটের নির্দেশ দিতে পারবে; তবে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা থাকবে না।

সাধারণত সহিংসতা, ব্যালট ছিনতাই, ইভিএম বা ব্যালট পেপার নষ্ট করা, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, কিংবা আদালতের নির্দেশ—এমন পরিস্থিতিতে কমিশন ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করতে পারে। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তই নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয়। ফলে হঠাৎ ভোট বন্ধের ঘোষণা এলেও তা সাধারণত আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হয়ে থাকে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন