হেফাজত আমিরের কঠোর বার্তা: জামায়াতকে ভোট দেওয়া ‘জায়েজ হবে না

 


হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাজীর হাট বড় মাদ্রাসার খতমে বোখারি অনুষ্ঠানে মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘জায়েজ হবে না’। অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় মুসলিম ভোটারদের সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, জামায়াতকে সমর্থন করা হারাম এবং মুসলিমদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

বাবুনগরী আরও বলেন, “আমরা উনাকে ভোট দিচ্ছি তা নয়, উনাকে সামনে রেখে উনার মাধ্যমে জিহাদ করছি। কার সঙ্গে; মওদুদির জামায়াতের সঙ্গে।” তিনি জামায়াতে ইসলামীকে মুসলমানদের জন্য বিপজ্জনক এবং দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হেফাজত আমিরের মতে, যদি মুসলিমরা জামায়াতকে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে তারা ইসলামের ভিত্তি ও মুসলমানদের স্বাভাবিক জীবনকে ক্ষুণ্ণ করবে। তিনি জানান, এটি শুধুমাত্র নির্বাচন নয়, বরং এক ধরনের জিহাদ যেখানে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রভাব রুখতে হবে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকে কখনো সাধারণ ভোটাধিকার হিসেবে দেখার পরিবর্তে তা জিহাদের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। হেফাজত আমিরের বক্তব্য অনুযায়ী, জামায়াতের নেতাদের রাজনৈতিক দাপট দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য হুমকি। তিনি একাধিকবার জামায়াতকে ‘ভণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন এবং জনগণকে তাদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

হেফাজতের এই মন্তব্য নির্বাচনী মাঠে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের উপর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তার বার্তা স্পষ্ট – মুসলমানদের উচিত ভোটের মাধ্যমে জামায়াতকে ক্ষমতায় পৌঁছানো রোধ করা, যাতে ইসলামের মৌলিক কাঠামো ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। এই অবস্থায় দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও হেফাজতের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এভাবেই হেফাজত আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর বার্তা নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে মুসলিম ভোটারদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান হিসেবে ধরা যাচ্ছে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন