বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড ও জুলাই সনদ ইস্যু; ফেসবুকে যা বললেন শিশির মনির
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জামায়াত নেতা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না করায় সরকারের সমালোচনাও করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
পোস্টে শিশির মনির লেখেন, ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে সরকার, এজন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে প্রতিশ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি সরকারের সমালোচনা করেন এবং বলেন, এ বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তার ভাষায়, “ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন—সে জন্য সরকারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
অপরপক্ষে প্রতিশ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ভঙ্গ করেছেন—সেজন্য সরকারকে অনেক অনেক তিরস্কার।” তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, যা কড়াইল বস্তির পাশেই অবস্থিত, আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা গেলে পরিবার ও সমাজ উভয়ই এগিয়ে যাবে। তিনি জানান, সরকার ধাপে ধাপে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোর নারীপ্রধান সদস্যরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
তবে এই সুবিধা নেওয়ার সময় তিনি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা অনুদান পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য যদি আগে থেকেই কোনো সরকারি সুবিধা পেয়ে থাকেন, তা বহাল থাকবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। রাজধানীর কড়াইল ও ভাসানটেক বাগানবাড়ি বস্তি ছাড়াও রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জসহ মোট ১৪টি স্থানে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৩টি জেলার বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এজন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালির সামগ্রী যেমন টেলিভিশন, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের ব্যবহার, এমনকি বিদেশ থেকে অর্থপ্রাপ্তির বিষয়সহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারকে দরিদ্র বা নিম্ন আয়ের তালিকায় চিহ্নিত করা হয় এবং চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের নারীদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
