আজ ভোট শান্তিপূর্ণ রাখতে মাঠে নামছেন ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সারা দেশে ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। এই ম্যাজিস্ট্রেটরা ভোটগ্রহণের পূর্বের দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের দুই দিন মোট পাঁচ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তারা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্বাচনী অপরাধ, যেমন ভোটে বাধা, কেন্দ্র দখল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো ঘটনা দ্রুত বিচার (সামারি ট্রায়াল) করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাচনী এলাকায় যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তারা বিচারিক কার্যক্রমের সুবিধার্থে একজন সহকারী বা অফিস স্টাফ সঙ্গে রাখতে পারবেন। এছাড়া, জেলা প্রশাসকরা ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রয়োজনীয় যানবাহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রয়োজনীয় স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনি অপরাধের সামারি ট্রায়ালের ফলাফল বা নিষ্পত্তির বিবরণী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসি সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। এই ব্যবস্থা ভোটের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তফশিল অনুযায়ী, সারা দেশের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় এই ৬৫৫ ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই ম্যাজিস্ট্রেটরা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনি অপরাধ দমন করবে, যাতে ভোটাররা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ভোট দিতে পারেন। আইন ও বিচার বিভাগের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনী দিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
