যে চার দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সময়ে অর্থের অপব্যবহার ও অবৈধ লেনদেন রোধে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার দিন ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট চার দিন মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। এ সময় বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস সেবায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনে (পিটুপি) সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকরা একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন এবং দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে, যার মোট পরিমাণ ১০ হাজার টাকার বেশি হবে না।
এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের সময় এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটি ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধসহ পরিষেবা বিলের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। অর্থাৎ কেনাকাটা বা বিল পরিশোধে কোনো অতিরিক্ত বাধা থাকবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কিছু অতিরিক্ত সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি কোনো ধরনের আর্থিক অপরাধ বা সন্দেহজনক লেনদেন হলে তা দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে আলাদা জরুরি রেসপন্স সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এমএফএস ও ব্যাংকগুলোকে সার্বক্ষণিক ক্লোজ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সব লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে এবং নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে বলা হয়েছে।
