১৪ বার ভাইভায় ব্যর্থতা, আজ ৭০ লাখ টাকার প্রজেক্টের মালিক রাবি ছাত্র রবিউল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে চাকরির পেছনে দীর্ঘ সময় দৌড়েছেন রবিউল ইসলাম। ১৪টি সরকারি চাকরির ভাইভা দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চাকরি পাননি তিনি। তবে ব্যর্থতার সেই অধ্যায়ই তাকে আজ সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছে।
গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে তিনি প্রথমে একটি বেসরকারি হাইস্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। এক বছর শিক্ষকতার পর ২০২০ সালে বোনের কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ধার নিয়ে পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন রবিউল ইসলাম। এই সিদ্ধান্তই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
২০২১ সালে তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করেন। ছোট-বড় মিলিয়ে ৯টি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ সম্প্রসারণ করেন। পাশাপাশি গরু-মহিষের খামার এবং মুরগির খামারও গড়ে তোলেন তিনি। বর্তমানে তার সমন্বিত খামার প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকায়।
রবিউল ইসলাম নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের দ্বীপগঞ্জ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম রিয়াজুল ইসলামের তৃতীয় সন্তান। তার পরিবারের আরও সদস্যরা উচ্চশিক্ষায় যুক্ত রয়েছেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে দুই ভাই ও এক বোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তার স্ত্রী একজন স্কুল শিক্ষিকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, তার খামারে রয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের ১৪টি গর্ভবতী গরু, ৫টি দুধের গরু এবং প্রতিদিন প্রায় দুই মণ দুধ উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি ৯টি আড়াই বছর বয়সী মহিষ রয়েছে। মাছ চাষের জন্য রয়েছে প্রায় ৩০ বিঘা আয়তনের ৫টি পুকুর। মুরগির খামারে প্রায় ২ হাজার মুরগি রয়েছে এবং ৪ হাজার ধারণক্ষমতার আরও একটি শেড নির্মাণাধীন।
এছাড়াও তিনি দ্বীপগঞ্জ বাজারে একটি ভেটেরিনারি ঔষধের দোকান পরিচালনা করছেন, যেখানে পশুপাখির খাদ্য ও ঔষধ বিক্রি করা হয়। তার এই সমন্বিত কৃষি উদ্যোগে বর্তমানে ৭ জন কর্মচারী কাজ করছেন।
উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, ১৪টি ভাইভা দিয়েছি, কিন্তু হয়নি। পরে গ্রামে ফিরে বোনের কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করি। এখন মাছ, গরু-মহিষ, মুরগির খামার ও দোকান মিলিয়ে আমার মোট পুঁজি প্রায় ৭০ লাখ টাকা।”
তার এই সফলতা এখন অনেক তরুণ উদ্যোক্তার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে, যারা চাকরির পরিবর্তে স্বনির্ভরতার পথে হাঁটতে চান।