যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা: শিশুসহ নিহত ১২


 লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দখলদার বাহিনীর ধারাবাহিক এসব হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে সংঘাত থামছে না, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

শুক্রবার (১ মে) Nabatieh জেলার হাব্বুশ এলাকায় চালানো বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন, যাদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার তীব্রতায় পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

একই দিনে Tyre ও নাবাতিয়েহর আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় হামলায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা, বাড়িঘর, একটি কনভেন্ট এবং একটি স্কুল ধ্বংস হয়ে গেছে, যা বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

হামলার আগে হাব্বুশ এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, আগের দিন একই এলাকায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছিল, যা বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬১৮ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৯৪ জন আহত হয়েছেন। ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও তা কার্যত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং সীমান্তে সহিংসতা অব্যাহত আছে।

ইসরায়েল দাবি করে, তাদের হামলা মূলত Hezbollah-কে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক, যা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে চলমান এই সংঘাত যেকোনো সময় বড় আকার ধারণ করতে পারে। যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন