যে শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ইরান


 যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও হুমকিমূলক বক্তব্য’ বন্ধ করলে তেহরান আবারও সংলাপে বসতে প্রস্তুত—এমন অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন Press TV-এর বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে Anadolu Agency। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের এই কূটনৈতিক বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১ মে) তুরস্ক সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Seyed Abbas Araghchi আঞ্চলিক এক বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিশর, ইরাক এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংলাপ নিয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

বৈঠকে আরাগচি বলেন, ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি এবং যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পুনরায় হামলা শুরু করে, তাহলে তা মোকাবিলার জন্য দেশটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়। তার ভাষায়, “আমরা চাই মতপার্থক্যগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হোক এবং একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হোক।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হুমকি ও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য থেকে সরে আসে, তাহলে ইরান পুনরায় আলোচনায় বসতে আগ্রহী। এই শর্তই এখন সম্ভাব্য সংলাপের প্রধান বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় ৪০ দিন সংঘাত চলার পর ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এরপর ১১ এপ্রিল Islamabad-এ শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। তবে টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপের ভিত্তি হিসেবে ইরান একটি তিনস্তরবিশিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তাব করে। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump, যা আলোচনার অগ্রগতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই সরাসরি সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখতে চাইলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং কঠোর অবস্থানের কারণে সমঝোতা এখনো দূরবর্তী। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দ্বন্দ্ব সমাধান না হলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই শর্তাধীন সংলাপ প্রস্তাব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে, আলোচনার পথ কতটা এগোবে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন