আমরা ইতোমধ্যেই জিতেছি, তবে আরও বড় বিজয় চাই’: ইরানের ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তবে তিনি আরও বড় ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করতে চান বলেও জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) Newsmax-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তার দাবি, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই তেহরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং নেতৃত্ব কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই জিতেছি, কিন্তু আমি আরও বড় ব্যবধানে জিততে চাই।” তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। তার ভাষায়, ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি ধ্বংসের পাশাপাশি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি দেশটির নেতৃত্ব কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই সংঘাতে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটির পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই মুহূর্তে সামরিক চাপ কমিয়ে দেয়, তবুও ইরানের পক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই দশক সময় লাগবে—যদি তারা আদৌ তা করতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, “আমরা যদি এখন সরে যাই, তাদের পুনর্গঠন করতে ২০ বছর লেগে যাবে।”
তবে এতকিছুর পরও ট্রাম্পের মতে, শুধু সামরিক জয়ই যথেষ্ট নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে একটি শক্ত ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে ইরান তীব্র অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর অবরোধের ফলে ইরান তেল রপ্তানি করতে পারছে না, যার কারণে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়েছে। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে তাদের অর্থনীতি ধসে পড়ছে, মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে তার এমন বক্তব্য কূটনৈতিক সমাধানের পথকে জটিল করে তুলতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
