ইরানের শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনায় ট্রাম্প, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নতুন আলোচনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ সচল রাখতে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। সেই প্রস্তাব এখন পর্যালোচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জাতীয় নিরাপত্তা দল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, সোমবার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেন।
তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের প্রস্তাবে কী আছে?
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে—
- চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল রাখা
- ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রাখা
তেহরান এই প্রস্তাবের মাধ্যমে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে চায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত
যদিও প্রস্তাবটি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ব নির্ধারিত মূল শর্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছেন লেভিট।
এদিকে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা গণমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচালনা করতে আগ্রহী নয় তারা।
অলিভিয়া ওয়েলস সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “এগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, তাই সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো দরকষাকষি করা হবে না।”
পারমাণবিক ইস্যুতে কড়াকড়ি
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার—ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করেই কেবল কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো হবে।
এক্ষেত্রে আমেরিকান জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
উপসংহার
ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে একটি সম্ভাবনা তৈরি করলেও, দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে দ্রুত সমাধান পাওয়া অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে সমঝোতা না হলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে পারে।
