ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কত, জানাল পেন্টাগন
.ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেছে Pentagon। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে এই তথ্য তুলে ধরেন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট। তিনি জানান, এই বিপুল ব্যয়ের বড় অংশই গেছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহারের পেছনে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির পুনর্গঠন বা অবকাঠামোগত মেরামতের ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
শুনানিতে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য Adam Smith দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “অবশেষে একটি সংখ্যা পাওয়া গেল, তবে আরও বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৫ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যয় চলতি বছরের জন্য NASA-এর মোট বাজেটের প্রায় সমান, যা যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। এর আগে গত মাসে Reuters-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছিল অন্তত ১১.৩ বিলিয়ন ডলার।
শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এই ব্যয়কে যৌক্তিক হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার কৌশলগত লক্ষ্য বিবেচনায় এটি প্রয়োজনীয়। তিনি কংগ্রেস সদস্যদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, “ইরানকে পারমাণবিক বোমা অর্জন থেকে ঠেকাতে আপনারা কতটা মূল্য দিতে প্রস্তুত?” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই সংঘাত এখনো দীর্ঘমেয়াদি জটিল যুদ্ধে পরিণত হয়নি। তবে যুদ্ধবিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তিনি সমালোচনা করে তাদের অবস্থানকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে এবং সেখানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে। বর্তমানে দুই পক্ষ একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় রাখলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন, যা অভ্যন্তরীণভাবে রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে স্পষ্টভাবে পড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সারসহ কৃষিপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। American Automobile Association-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে জনমতেও এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমছে। Reuters ও Ipsos-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় কম। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
